Raw Hasan – Journeys Against the Odds

From border detentions to UNESCO wonders — the solo, independent travels of a Bangladeshi, with one of the world’s weakest passports.

ট্রানজিটে ইস্তাম্বুলে একদিন

Istanbul Old Town Street

জীবনে দ্বিতীয় বার বিদেশ যাত্রা। বিসনেস ট্রিপে ইউকে যাওয়ার পথে ই-ভিসা নিয়ে একদিনের জন্য ঘুরে আসি ইস্তাম্বুল।

টার্কিশ এয়ারওয়েজে বেশি দাম দিয়ে টিকেট বুক করলাম। প্রথম কারন, মধ্যপ্রাচ্যের কোন ফ্লাইটে লেবার হিসেবে ট্রিট হতে চাচ্ছিলাম না। আর দ্বিতীয় কারন, ওদের ওয়েবসাইটে দেখলাম ইস্তাম্বুলে সারাদিনের একটা লেওভার থাকলে ওরা ফ্রিতে ইস্তাম্বুলে ট্যুরে নিয়ে যাবে সারা দিনের জন্য খাওয়া-দাওয়া-টিকেট-গাইড সব সহ!

আমিও চাচ্ছিলাম ট্রানজিট নিয়ে এক-দুইটা দিন অন্য একটা দেশ ঘুরে যেতে। তুরস্কেরটাই দারুন অপশন মনে হলো। ইউকে ভিসা থাকলে এক মিনিটে অনলাইনে এ্যাপ্লাই করে ই-ভিসা পাওয়া যাবে। সময়ও সুবিধা মত হচ্ছে। ঢাকা থেকে TK 713 তে গেলে ভোর ৫টা স্থানীয় সময়ে ইস্তাম্বুল। সেখান থেকে হিথ্রু অনেকগুলো ফ্লাইট আছে। রাতেরটা নিলেই হয়। বুক করে ফেললাম ফ্লাইট অনলাইনে।

ঢাকায় টার্কিশ এয়ারলাইন্সের অফিসে গেলাম টিকেটের টাকা জমা দিতে। শুরু হলো নাটক। ১৪ জানুয়ারী থেকে আমার ইউকে ভিসা শুরু। ১৩ তারিখ আমি ফ্লাই করতে পরবো না ঢাকা থেকে, একজন জানাল। বললাম ঠিক আছে, তাহলে অনলাইনেই পেমেণ্ট করে দিব, রিস্ক আমার যদি ওরা ফ্লাই করতে না দেয়। তখন ভাল করে দেখে শুনে আরেকজন সিদ্ধান্ত দিল আমি যেতে পারব, কারন ১৩ তারিখে রাতে ঢাকা থেকে রওনা দিলেও আমি ১৪ তারিখে ইউকে পৌঁছাচ্ছি।

এরপর অযাচিত উপদেশ দিল, আপনার তো লম্বা ট্রানজিট ইস্তাম্বুলে, আপনি কিন্তু বের হতে পারবেন না। বাংলাদেশীদের ওরা বের হতে দিচ্ছে না। বললাম, সেটা আমি বুঝব। আপনার চিন্তা করতে হবে না। অফিসে এসে তুরষ্কের ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে আবেদন করে ইন্সটেণ্ট ই-ভিসা নিয়ে নিলাম। বেশ কড়াকড়ি ভাবে সেখানে লেখা ছিল যদি কোন তথ্য ভুল দিয়ে থাকি, ভিসা বাতিল বলে গণ্য হবে। আর ইন্সুরেন্স থাকতে হবে মাস্ট।

ডেল্টালাইফে গেলাম ইন্সুরেন্স করতে। প্রথমে বলল ওদের ইন্সুরেন্স নাকি তুরস্ক এলাউ করবে না। ভিএফএস গ্লোবাল থেকে আলাদা ইন্সুরেন্স করতে হবে তুরস্কের জন্য। শুধু ইউকেটা ওদের কাছ থেকে করতে। আমি দুইটাই ওদের কাছ থেকে করলাম। ইণ্টারন্যাশনাল ইন্সুরেন্স এ্যালাউ না করার কারন যুক্তিসঙ্গত মনে হলো না।

Flight TK &12 to Istanbul
ইস্তাম্বুলের পথে ফ্লাইট TK 713

১৩ জানুয়ারী ২০২০, সন্ধ্যা | ফ্লাইট TK 713, ঢাকা-ইস্তাম্বুল

রাত ১০.৫০ এ ফ্লাইট (কুফা দিন ছিল ১৩ তারিখ?)। বাসার কাছেই এয়ারপোর্ট। সব গুছিয়ে সন্ধ্যায় চলে গেলাম। শুরু হলো ঝামেলা। টার্কিশে অনলাইনে চেক-ইন করে গেছি। চেক-ইন কাউণ্টারে দাঁড় করিয়ে রাখল আধা ঘণ্টা। চেক-ইন-এর জন্য পাসপোর্ট নাম্বার দিতে হবে। কিন্তু আমার চেক-ইন এডিট করতে পারছে না।

শেষে আরেকজন এসে সেটা বাতিল করে নতুন করে চেক-ইন দিল। আমার সীট নাম্বারটা ঠিক থাকল অবশ্য – যেটা ভাল কথা। বলে দিল, ইস্তাম্বুলে আমার লাগেজ কালেক্ট করে আবার চেক-ইন করতে হবে। ওরা দিতে পারেনি। যেটা ছিল একটা ভুল ইনফরমেশন। লাগেজ মনে হয় এক কেজি বেশি ছিল, সেটা নিয়ে কিছু বলল না।

ইমিগ্রেশনে যাওয়ার পরে ফ্রেশ পাসপোর্টে লণ্ডন যাচ্ছি দেখে প্রথমেই অফিসার বাতিলের খাতায় ফেলে দিল। তারপরে ১৪ তারিখ থেকে ইউকে ভিসা, ১৩ তারিখে যাচ্ছি দেখে মাথায় হাত। আমাকে উর্দ্ধতন অফিসারের কাছে হস্তান্তর করা হলো।

উর্দ্ধতন অফিসার চেক করে জিজ্ঞেস করলেন, সেই অনেক আগে হাতে লেখা পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশ গেছিলেন একবার, আর তো কোথাও যান নাই? বললাম, না। কোন কারনে ওনাদের সিস্টেম ডাউন ছিল। ভিসা চেক করতে পারছিলেন না। আবার আগের অফিসারের কাছে পাঠানো হলো।

ছোট অফিসার বড় অফিসারকে বললেন, স্যার ভিসা চেক করা যাচ্ছে না। বড় অফিসার আবার ভাল করে দেখলেন ভিসা (নখ দিয়েও খুটলেন), বললেন ভিসা ঠিকই মনে হচ্ছে। বাকী সব দেখে ছেড়ে দেন। ছোট অফিসার বললেন, ১৪ তারিখ থেকে ভিসা, আজকে কেমনে ছাড়ব! বড় অফিসার আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কখন পৌঁছাবেন লণ্ডন? বললাম, ১৪ তারিখ রাতে। বললেন, ঠিক আছে তাইলে। সব দেখে ছেড়ে দেন।

এরপর বাকী সব চেক করা হলো। হোটেল বুকিং, মেলার কাগজপত্র। সন্তুষ্ট হয়ে সীল মেলে ছেড়ে দিলেন। পুরোটা সময় উপভোগ করছিলাম। টেনশন হয়নি একদম – মজা পাচ্ছিলাম। ইমিগ্রেশন পার হয়ে অবশ্য হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। ড্রাইভারকে এতক্ষণে বললাম চলে যেতে।

ঢাকা এয়ারপোর্টের ভিতরটা এই প্রথম ঘুরে ঘুরে দেখলাম। আগের দুইবারে টেনশনের মধ্যে গেছি এবং ফিরেছি ১০ বছর আগে। ঘুরে দেখা হয় নি। দেখে টেখে খেয়ে দেয়ে একজনকে বললাম একটা ছবি তুলে দিতে। দিল তুলে একটা ক্যামেরা কাত-চিত অনেক রকম করে (এই অভিজ্ঞতায় পরের বার বিদেশ যাত্রার আগে সেলফী-স্টীক-কাম-ট্রাইপড কিনেছিলাম, যদিও সেলফি জিনিসটা একদমই অপছন্দের)।

বোর্ডিং-এর বেশ দেরী ছিল তখনো। ঘুরে ঘুরে সময় কাটালাম। ভাঙ্গাচুরা একটা মোবাইল নিয়ে যাচ্ছি, যেটা বদলানো দরকার ছিল। কিনব কি কিনবনা করতে করতে আর কেনা হয় নি। কাজটা বিরাট ভুল হল। সাথে একটা গোপ্রো আছে ভরসা হিসেবে।

বোর্ডিং-এর ঘোষণা হতে টার্কিশের নির্দিষ্ট গেইটে চলে গেলাম। বিরাট ঝামেলা করেই সিকিউরিটি পার হতে হলো, কারন আমার ব্যাগ ভর্তি ল্যাপটপ, চার্জার, ক্যামেরা, তালা সহ আরো সব স্টীল। সব খুলে খুলে ট্রেতে দিয়ে (বেল্ট-জুতা সহ) পার হতে হলো। তারপর ওখানেই আবার সব পড়া। ট্রে রুমের ভিতরে নেয়া যাবে না।

লাইনের মাঝখানে আবার টার্কিশের একজন স্টাফ সব কাগজপত্র দেখতে চাইলে মহা বিরক্ত লাগলো এটা ভেবে যে ওর ডকুমেণ্টস চেক করার কি এখতিয়ার আছে? পরে মনে পড়ল, কোন কারনে প্যাসেঞ্জার ফেরত আনতে হলে সেটা এয়ারলাইন্সকেই বহন করতে হবে। তারপর আস্তে ধীরে ব্যাগ থেকে কাগজপত্র বের করার উদ্যোগ নিলাম। লাইনের মাঝখানে এই পরিমান সময় লাগছে দেখে উনিই তাড়া দিলেন, যান যান, হোটেল বুকিং সব ঠিক ঠাক আছে তো?

সিকিউরিটি পার হয়ে রুমের ভিতরে বসলাম গ্লাসের পাশে। কাছ থেকে রানওয়ে এবং সব প্লেন দেখতে অদ্ভূত লাগছিল। আরো কিছুক্ষণ পরে প্লেনে উঠার জন্য ডাক দিল। হেঁটে হেঁটে গিয়ে প্লেনে উঠলাম। মাঝখানে পানির বোতলটা রেখে দিল।

ব্যাকপ্যাক মাথার উপরে বক্সে রেখে জানালার পাশে নিজের সীটে বললাম। পাশের সীটে বসল এক সদ্য বিবাহিত তরুনী, হাজব্যাণ্ডের কাছে যাচ্ছে ইউএসএ। ভয়ে অস্থির হয়ে আছে। অভয় দিলাম, ভয়ের কিছু নেই। নির্দিষ্ট সময়ের কিছু পরে ফ্লাইট TK 713 ইস্তাম্বুলের পথে উড়াল দিল। সাড়ে ৯ ঘণ্টার ফ্লাইট। যানবাহনে ঘুমানোর অভ্যাস নেই। মুভি দেখায় মন দিলাম।

Waiting for tour at Istanbul airport
ইস্তাম্বুল এয়ারপোর্টে ট্যুর শুরুর অপেক্ষা

১৪ জানুয়ারী ২০২০, ভোর | ইস্তাম্বুল এয়ারপোর্ট

ভোর ৫ টার দিকে নির্ধারিত সময়েই ইস্তাম্বুল নতুন এয়ারপোর্টে নামল ফ্লাইট TK 713। ছাড়ার সময় যদিও আধা ঘণ্টার বেশী দেড়ি করেছিল, মনে হয় মাঝখানে টেনে চলে এসেছে! বিশাল বড় টার্মিনাল। নেমে হাঁটছি তো হাঁটছিই, শেষ হওয়ার খবর নেই। মাঝে মাঝে আবার চলন্ত রাস্তা, তাতে দাঁড়িয়ে থাকলেই হাঁটার দরকার করে না।

ব্যাগেজ এরিয়া কোনদিকে, কিছুক্ষণ পর পর তার দিক-নির্দেশনা দেয়া আছে। সেই সাইন দেখে দেখে হাঁটছি। হাঁটতে হাঁটতে এক সময় ইমিগ্রেশন এরিয়ায় গিয়ে ঠেকলাম, যেটাকে দেখলাম বলে পাসপোর্ট কণ্ট্রোল। এই এরিয়া পার হয়ে ব্যাগেজ এরিয়ায় যেতে হবে।

সারি সারি অনেক বুথ, প্রায় সবই খালি। একটা খালি বুথে গেলাম। কোন পুলিশ না, সব সিভিল ড্রেসে বসে আছে। ভোর বেলায় ঘুম ঘুম চোখে পাসপোর্ট কণ্ট্রোল অফিসার স্বাগত জানাল। বলল, তোমার জন্য কি করতে পারি বল। বললাম আমার লাগেজের কাছে যেতে চাই। বলল, সেইখানে যাওয়ার এটাই সঠিক রাস্তা। তুমি ঠিক জায়গায় এসেছ। এখন বল, তোমার ভিসা আছে? কি নাম তোমার? বললাম, রাশেদুল হাসান। তুমি হাসান বলতে পার। ও তখন নাম নিয়ে আলাপ জুড়ে দিল।

বলল, তোমার নাম তো রাশেদ, হাসান বলব কেন? বললাম, ঐটাই বলার কথা, কিন্তু আরবী নাম আমাদের দেশের রীতি অনুযায়ী ভুল করে রাশেদুল লেখা আছে, তাই সেটা ব্যবহার করি না। ও তখন বলল, আমারও একই অবস্থা। আমার নাম আব্দুল কাদের জিলানী। আমি বলি শুধুই কাদের। ভিসাটায় একবার চোখ বুলাল। তারপর ইউকে ভিসাটা চেক করে দেখল। বলল, তোমার ভিসা ঠিক আছে। ইন্সুরেন্সটা দেখলও না। ই-ভিসার প্রিণ্ট করা কাগজটায় ধপাস করে একটা সীল মেরে পাসপোর্ট সহ ফেরত দিয়ে বলল, “রাশেদ, মাই ফ্র্যাণ্ড, ইউ আর ফ্রি টু গো”! ওর আনন্দিত গলাটা সারা জীবন মনে থাকবে।

ইমিগ্রেশন পার হয়ে ব্যাগেজ সাইন দেখে দেখে আবার হাঁটতে থাকলাম। অনেকক্ষণ পরে নীচের ফ্লোরে লাগেজ বেল্ট এরিয়ায় এসে পৌঁছালাম। আমার ফ্লাইটের নির্ধারিত বেল্টে এসে দেখি বেশ কিছু লাগেজ পড়ে আছে, কিন্তু আমারটা নেই। জিজ্ঞেস করে জানলাম, এই সব। আর কোন লাগেজ আসা বাকী নেই।

টার্কিশ এয়ারের একজন স্টাফকে জিজ্ঞেস করলাম, আমার লাগেজ পাওয়া যাচ্ছে না, কি করব? ও আমাকে টার্কিশ এয়ারের লস্ট লাগেজ কাউণ্টারে যেতে বলল। পুরো টার্মিনাল জুড়েই শুধু টার্কিশ এয়ারের কাউণ্টার। নাম্বার ধরে নির্দিষ্ট কাউণ্টার খুঁজে বের করে গিয়ে বললাম আমার লাগেজ পাওয়া যাচ্ছে না। ওরা পাসপোর্ট নাম্বার নিয়ে খুঁজে দেখে বলল, তোমার লাগেজ হিথ্রো ফ্লাইটে চলে গেছে। তার মানে ঢাকায় বোর্ডিং-এর সময় ভুল তথ্য দিয়েছিল যে আমাকে লাগেজ নিয়ে আবার চেক-ইন করতে হবে ইস্তাম্বুলে। এবার নিশ্চিন্ত হয়ে যেই উদ্দেশ্যে ইস্তাম্বুল আসা, সেই কাজে মন দিলাম।

আমার সারা দিনের ফ্রি ট্যুর যাদের মাধ্যমে করার কথা, সেই প্রতিষ্ঠানের নাম ট্যুরিস্তাম্বুল। যাওয়ার আগে টার্কিশ এয়ারের ওয়েবসাইটে একটা ফ্লোর প্ল্যান দেখেছিলাম, যেখানে অফিসটা মার্ক করা ছিল। টার্কিশ ভাষায় সব লেখা দেখে আর প্রিণ্ট করে সাথে নেই নি। ভেবেছিলাম কাউকে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দিবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে এই জায়গা কেউই চিনে না, টার্কিশ এয়ারের স্টাফরাও না। আরো বড় সমস্যা, ইংলিশ প্রায় কেউই বুঝে না। টার্কিশ ভাষায় লেখা ম্যাপটা সাথে থাকলেই ভাল হত। যে কাউকে দেখালে টার্কিশ ভাষায় পড়ে দেখিয়ে দিতে পারত।

জিজ্ঞেস করতে করতে অফিসটার হদিস পাওয়া গেল। টার্কিশ এয়ারের এক কাউণ্টার থেকে বলল এটা টার্মিনালের ঢুকার মুখে। তোমাকে টার্মিনালের বাইরে চলে যেতে হবে। ওর দেখানো রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে বাইরের দিকে চলে আসলাম, যেখানে সবাই গেস্ট পিক-আপ করতে এসেছে।

জায়গায় জায়গায় মিটিং-পয়েণ্ট নাম্বার সাইন লাগানো, যেখানে সবাই সহজে গেষ্ট পিক-আপ করতে পারে। অথচ এই সহজ একটা সাইনের অভাবে ঢাকা এয়ারপোর্টে আমরা গেস্ট পিক-আপ করতে কতটা ভোগান্তির শীকার হই! টার্মিনালের দুই পাশে দুইটা মিটিং পয়েণ্ট ১,২ সাইন লাগিয়ে দিলে গেস্টকে বলে দিলে ওই সেই জায়গায় চলে আসতে পারত। গেস্ট খুঁজে পেতে কোন ভোগান্তিই হতো না – আমাদেরও না, গেস্টদেরও না।

পাশেই দেখলাম টার্কিশ এয়ারের আরো কতগুলো কাউণ্টার, যেখানে সবাই আসছে একটা কাউণ্টারে। ট্রানজিট প্যাসেঞ্জারদের মনে হয় হোটেলে থাকার ব্যাবস্থা আছে কোন টিকেটে। সবাই আসছে হোটেলের খোঁজে। ব্যাস্ত কাউণ্টার। সবাই ঘুম চোখে সিরিয়ালের টোকেন নিয়ে একজন একজন করে যাচ্ছে। তার পাশেই দেখা যাচ্ছে ট্যুরিস্তাম্বুলের কাউণ্টার। ভেবেছিলাম এটা বোধহয় ওদের ট্যুরিজম বোর্ডের অফিস, এখন দেখতে পাচ্ছি আসলে ফ্রি ট্যুরটা করছে টার্কিশ এয়ারওয়েজ নিজেই!

কাউণ্টারে কোন স্টাফ এখনো আসেনি। অন্য কোন ট্যুরিস্টও এখনো এটার খোঁজে এসে উপস্থিত হয়নি। আমিই প্রথম। একটা সিরিয়ালের টোকেন নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকলাম।

Bus to Sultanahmet from Istanbul Airport
ইস্তাম্বুল এয়ারপোর্ট থেকে পুরনো শহর সুলতানাহমেত যাওয়ার বাস – এটা অবশ্য ফিরতি পথের

১৪ জানুয়ারী ২০২০, সকাল | ইস্তাম্বুল এয়ারপোর্ট – সুলতানাহমেত

সকাল সাতটায় টার্কিশ এয়ারের একজন স্টাফ এসে ট্যুরিস্তাম্বুল অফিস খুলল। গিয়ে সারাদিনের ফ্রি ট্যুরের জন্য এসেছি জানালাম। ও বোর্ডিং পাশটা নিয়ে অফিসের ভিতরে চলে গেল। ফিরে এলো কিছুক্ষণ পরে ট্যুরিস্তাম্বুল লেখা একটা গলায় ঝুলানোর পাশ নিয়ে। দিয়ে বলল, ঐদিকে চেয়ারে অপেক্ষা কর। ৮ টায় ট্যুর শুরু হবে। ট্যুর গাইড ওখানে এসে ডাকবে।

ইতিমধ্যে আরো বেশ কিছু ট্যুরিস্ট এসে হাজির হয়েছে। সবই আধা বেলা ট্যুরের জন্য, যেটা ৭.৩০ এ শুরু হবে। ভাবলাম, হাতে অনেক সময় আছে, এই ফাঁকে এয়ারপোর্টটা ঘুরে দেখি। ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম।

হোটেল, সিটি ট্যুর সব কিছুর বুথ আছে, যেগুলো থেকে ঢাকা এয়ারপোর্টের মতই ডাকাডাকি করছে। আসার সময় ফোন কোম্পানীর একটা বুথে কথা বলেছিলাম। সেখানে গিয়ে লোকাল সিমকার্ড কিনলাম একটা, শুধু ডাটা প্যাকেজের, ২৪ ঘণ্টা মেয়াদের। এক বা দুই জিবি ডাটা সহ সম্ভবত ২৫ লিরা নিয়েছিল। ইউএস ডলারে পেমেণ্ট করে দিলাম ক্যাশ। আমার ভাঙ্গা মোবাইলে সিম কার্ড একটিভ করতে ওর বেশ বেগ পেতে হলো। কি জানি সমস্যা হচ্ছিল সেটিংসে।

ট্যুরিস্তাম্বুলের অফিসটা খুঁজে পাওয়ার আগে একটা রিয়েলস্টেট বুথে জিজ্ঞেস করেছিলাম। ও-ই অফিসটা কোনদিকে হবে নেটে ঘেটে দেখিয়ে দিয়েছিল। আসার সময় জিজ্ঞেস করেছিল, বাই এনি চান্স, ইস্তাম্বুলে তোমার বাড়ি কেনার প্ল্যান নেই তো? থাকলে আমাদের অনেক ভাল ভাল অফার আছে। বাড়ি কিনলে সাথে লং টার্ম রেসিডেন্সি ফ্রি পাবে। হাসতে হাসতে বললাম, না, আপাতত শুধুই তোমাদের শহরটা একদিন ঘুরে দেখার প্ল্যান!

কিছু ইউএস ডলার এক্সচেঞ্জ করে টার্কিশ লিরা নিলাম। সকাল সকাল এত কম পরিমান টাকা এক্সচেঞ্জ করাতে ওর বোধহয় দিনটা খারাপ ভাবে শুরু হল। বলল, এত কম টাকা দিয়ে কি করবে? বললাম, কফি খাওয়ার জন্য লাগবে। খুবই বাজে রেট দিল। xe.com-এর রেটটা ওকে দেখিয়ে বললাম, এত কম কেন রেট? বলে ওটা মিড মার্কেট রেট, আর আমাদেরটা এখানকার ব্যাংকের রেট। কমই হবে। সাথে এক্সচেঞ্জের জন্য ফি আছে আলাদা। অল্প টাকার ব্যাপার, আর কিছু বললাম না।

আরো অনেক্ষণ ঘুরাঘুরি করলাম এয়ারপোর্টের ভিতরে। দূর থেকে দেখলাম আমার যেখানে অপেক্ষা করার কথা সেখানে একটা গ্রুপ জড়ো হয়ে চলে যাচ্ছে। ভাবলাম, সাড়ে সাতটার গ্রুপটা যাচ্ছে। আরো কিছুক্ষণ ঘুরে আটটার কিছু আগে সেখানে গিয়ে দেখি কেউ নেই। খটকা লাগল একটু, ট্যুর আজকে হবে না ভেবে। অফিসটায় গিয়ে বললাম, আটটা বাজে, কাউকে তো দেখছি না। শুটকির মত মেয়েটা আকাশ থেকে পড়ল! বলল, স্যার, আপনি এতক্ষণ কোথায় ছিলেন? এখন বাজে নয়টা, ওরা আপনাকে ডেকে ডেকে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে চলে গেছে! মাথা নষ্ট হয়ে গেল। টার্কিশ সিমকার্ড আমার মোবাইলে টাইম দেখাচ্ছে ৮ টা! সম্ভবত জোন সেটিংস-এ কোন ভুল হয়েছে।

মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলাম, তাহলে এখন কি করতে পারি? বলল, দূপুর দুইটায় আরেকটা হাফ-ডে ট্যুর আছে। সেটার জন্য অপেক্ষা করতে পারেন। অথবা বাইরে এয়ারপোর্ট শাটল বাস আছে। ওগুলোতে পুরনো শহর সুলতানাহমেত চলে যেতে পারেন। এক ঘণ্টা লাগবে যেতে। ওখানে ব্লু মস্ক, টপকাপি প্যালেস, গ্র্যাণ্ড বাজার সহ অনেকগুলো সাইট কাছাকাছি।

ফ্রি ট্যুরের জন্য ইস্তাম্বুলে এককদিন মাত্র সময়ের অত্যন্ত মূল্যবান আধাবেলা এয়ারপোর্ট বসে নষ্ট করতে চাইলাম না। বাসে সুলতানাহমেত চলে যাওয়ারই সিদ্ধান্ত নিলাম। পাশটা ফেরত দিয়ে ওকে ধন্যবাদ জানিয়ে এয়ারপোর্টের বাইরে চলে এলাম।

বাইরে আসতেই ঠাণ্ডা বাতাস একটা ধাক্কা দিল। জলদি জ্যাকেটটা পরে নিলাম। মনে পড়ল, নামার আগে পাইলট ঘোষণা করছিল, বাইরের টেম্পারেচার “কম্ফোর্টেবল” ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস! পাশেই বেশ কয়েকটা বাস স্টপেজ। একটা দেয়ালে রুটগুলোর নাম্বার লেখা। সবই টার্কিশ ভাষায়। একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, সুলতানাহমেত কোনটা যাবে। সঠিক কাউণ্টারটা দেখিয়ে দিল।

একটা বাস এসে দাঁড়াল ওখানে, হাভাইস্ট নাম। উঠে ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলাম, এটা সুলতানাহমেত যাচ্ছে কিনা। উপর নিচে মাথা নাড়ল। ভাড়া কত জিজ্ঞেস করলাম পকেট থেকে লিরাগুলো বের করে। এবার দুইদিকে মাথা নেড়ে টার্কিশ ভাষায় কি যেন বলল, তারপর বলল ক্রেডিট কার্ড। কার্ড বের করে দিলে মেশিনে চার্জ করে টিকেট দিয়ে ভিতরে বসতে বলল ইংরেজীতে! বললাম, তুমি তো ইংরেজি জান! একটা হাসি দিয়ে বাস ছেড়ে দিল। প্রায় পুরোটাই ফাঁকা।

Istambul Old Town Sultanahmet
ইস্তাম্বুলের পুরনো শহর সুলতানাহমেত

১৪ জানুয়ারী ২০২০, দিন | পুরনো শহর সুলতানাহমেত, ইস্তাম্বুল

ইস্তাম্বুল এয়ারপোর্ট থেকে হাভাইস্ট এয়ারপোর্ট শাটল বাস চলা শুরু করলো পুরনো শহর সুলতানাহমেতের পথে, যেখানে রয়েছে প্রাচীন কন্সটেন্টিনোপোল শহরের সব নিদর্শন এবং ইস্তাম্বুলের বেশির ভাগ বিখ্যাত ট্যুরিস্ট সাইট। রাস্তার দু’পাশে রুক্ষ প্রকৃতি – সবুজের কোন নামগন্ধ নেই। সম্ভবত শীতের সময় বলে। পিচঢালা রাস্তার দিকে অনভ্যস্ত চোখে তাকালে ধাক্কার মত লাগে – এতটা মসৃন!

মাঝখানে অনেকগুলো স্টপেজে থেমে প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে বাস নামিয়ে দিল ইস্তাম্বুলের সুলতানাহমেত এলাকায়। চারিদিকে চমৎকার সব মসজিদ এবং বিল্ডিং। বোঝাই যাচ্ছে জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট এরিয়া। প্রচুর ট্যুরিস্ট চারিদিকে। মেইন রাস্তা দিয়ে ট্রাম চলছে সমানে। অদ্ভূত লাগছে দেখতে।

Tram in Sultanahmet
ইস্তাম্বুলের পুরনো শহরে ট্রাম

বড় রাস্তা ছেড়ে ভিতরের গলির একটা রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকলাম। দুইপাশে পুরনো সব বাড়ি। রেস্টুরেণ্ট আর স্যুভেনির শপ চারিদিকে। রেস্টুরেণ্টগুলো থেকে ট্যুরিস্টদের ডাকাডাকি করছে। নাস্তা করার জন্য একটাতে ঢুকে পড়লাম। দোকানী ইংরেজি জানে না এক বর্ণও। মজার ব্যাপার, একদম সঠিকভাবে বলল, তুমি বাংলাদেশী, তাই না? আকাশ থেকে পড়লাম। মধ্যপ্রাচ্যে থাকতে দেখতাম মানুষ আমাকে গায়ের রঙ দেখে শ্রীলঙ্কান বলে ধরে নিত বেশীর ভাগই। বাংলাদেশী ট্যুরিস্ট বোধ হয় অনেক আসে এখানে।

কাবাবের অনেক আইটেম দোকানে। সব সলিড মাংস শিকের মধ্যে সাজানো। ভেড়ার মাংসের একটা র‍্য্যাপ অর্ডার করলাম। চোখের সামনে গরম গরম বানিয়ে দিল রুটি, সালাদ, আর সস দিয়ে। অসম্ভব টেস্টি। ২২ লিরা নিল। সলিড মাংসের পরিমান দেখে মনে হলো বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম দাম। দুইজনে খাওয়া যাবে। আফ্রিকার টিনেজারদের একটা গ্রুপ দোকানে ঢুকে টেবিলে কিছুক্ষণ বসে দোকানে পিৎজা নাই শুনে চলে গেল। দোকানদারের মন খারাপ হল বেশ বুঝলাম।

Grand Bazar in Istambul
ইস্তাম্বুল গ্র্যাণ্ড বাজার

খাওয়া শেষ করে আবার হাঁটা শুরু করলাম। হাঁটতে হাঁটতে চলে আসলাম মেইন স্কোয়ারে। বিড়াট একটা মাঠের চারিদিকে সব ট্যুরিস্ট সাইট দেখা যাচ্ছে। নাম জানি না কোনটারই, রিসার্চ করে না যাওয়াতে। তাতে অবশ্য আমার কিছুই যায় আসে না। ভিতরে যাওয়ার ইচ্ছে হলো না তেমন। তার চেয়ে বাইরে মানুষ-জন দেখতেই বেশী ভাল লাগছে।

মেইন রাস্তা দিয়ে ট্রাম যাচ্ছে এক-দুই মিনিট পরপরই। ভাবলাম একটায় চড়ে এইমাথা-ঐমাথা ঘুরে দেখি। জায়গায় জায়গায় ভেণ্ডর মেশিন দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু বিধি বাম, সবই টার্কিশ ভাষায় লেখা মেশিনে। ৫ লিরা এমনিতেই মেশিনে ঢুকিয়ে ট্রাই করলাম একবার। আবার ফেরত চলে আসল। কিছুই হলো না। হেল্প করার মত কাউকে পেলামও না। কাজেই আবার হাঁটা ধরলাম মেইন রোড ধরে।

ATM Booths in Sultanahmet
ইস্তাম্বুল পুরনো শহরে এটিম বুথের সারি

অনেকক্ষণ ধরে কফি খুঁজছিলাম। চা আছে সবখানেই, কিন্তু কফি তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। খুঁজে খুঁজে অবশেষে একটা রেস্টুরেণ্টে কফি পেলাম। দাম জিজ্ঞেস করে এক কাপ কফি নিয়ে বাইরে টেবিলে বসলাম। দোকানদার সাথে একটা বাটিতে কতগুলো মিষ্টি (টার্কিশ ডিলাইট) দিয়ে বলল, ফ্রি, খাও! খুশি হয়ে ধন্যবাদ দিলাম। পরে সুলতানাহমেত থেকে চলে আসার আগে স্কোয়ারের কোনার দোকানটায় কফি খেয়ে বুঝেছিলাম, বেটা ট্যুরিস্ট পেয়ে কফির দাম নিয়েছে ডবল! তাই কাফফারা হিসেবে ফ্রিতে মিষ্টি দিয়েছিল। ঠগ হলেও অসৎ না!

গ্র্যাণ্ড বাজারের কাছে একটা মানি এক্সচেঞ্জ শপ দেখলাম, যেখানে বলছে তারা কোন এক্সচেঞ্জ ফি নেয়না এবং বেস্ট রেট দেয়। কিছু ডলার এক্সচেঞ্জ করলাম এখান থেকে। আসলেই এয়ারপোর্ট থেকে অনেক ভাল রেট দিল। গ্র্যাণ্ড বাজার এবং আশেপাশে অনেক সময় কাটালাম। পুরনো মার্কেটে সারি সারি পশরা, স্যুভেনির, মশলা সাজানো – সবই ট্যুরিস্টদের উদ্দেশ্য করে বোঝা যাচ্ছে। দাম অনুমান করে কিনলামনা কিছু।

Gazi Atik Ali Pasha Mosque in Istanbul
গাজী আতিক আলী পাশা মসজিদ

হাঁটাহাঁটি করে দূপুরে বেশ ক্ষুধা লেগে গেল। সকালে কাবাব ভাল লেগেছিল, তাই আরেকটা রেস্টুরেণ্ট থেকে ডাকাডাকি করাতে ভিতরে ঢুকে গেলাম। দামটাম জেনে নিয়ে অর্ডার দিয়ে টেবিলে বসলাম। কাস্টমার নেই একজনও দোকানে। এরা সবাই মিলে আলাপ জুড়ে দিল।

একজন ইংরেজী জানে। সে কথা বলে বাকী সবাইকে অনুবাদ করে দিচ্ছিল। দিলখোলা লোক সব, বোঝা যাচ্ছিল। একটা প্লেটে কিছু সালাদ নিয়ে খেতে দিল ফ্রিতে। এদের কিচেন ভিতরে। হাঁটতে হাঁটতে খাব বলে পার্শ্বেল নিয়ে নিলাম। পরে মুখে দিয়ে দেখি একদম বিস্বাদ! বুঝলাম, এখানে কেউ ফ্রি কিছু খেতে দেয়ার মানে হলো ঘাপলা আছে!

Nuruosmaniya Mosque in Istanbul
নূরোসমানিয়া মসজিদ
Hagia Sophia Mosque
বিশ্ববিখ্যাত হাগিয়া সোফিয়া মসজিদ

ইস্তাম্বুলের পুরনো শহরে দুপূরে যোহরের আজান হচ্ছিল চারিদিকে। আর একটা অদ্ভূত ঘটনা ঘটছিল। পাশাপাশি দুটো মসজিদে আজান হচ্ছে, কিন্তু ব্যাপারটা আমাদের মত একসাথে হচ্ছে না। এক মসজিদে আজানের একটা লাইন বলে বেশ কিছুক্ষণ থামছে, এরপর পাশের মসজিদে একলাইন বলছে – কার চেয়ে কে কতটা সুন্দর করে আজান দিতে পারে, মনে হচ্ছিল তার প্রতিযোগীতা হচ্ছে!

চারিদিকে এত এত সুন্দর সুন্দর মসজিদ, ভাবলাম নামাজটা পরেই নেই, আবার কোনদিন আসতে পারি কি না কে জানে! যদিও ভারি জ্যাকেট-বুট সব খুলতে ইচ্ছে হচ্ছিল না, তারপরেও সব খুলে ওয়াশরুমে ঢুকলাম মেশিনে ১ লিরা চার্জ দিয়ে। ঢুকতেই দেখি একটা ওয়ালেট পড়ে আছে। আমারটাই পড়ে গেল কিনা ভেবে বুকের মধ্যে ধ্বক করে উঠল। চেক করে দেখি আমারটা ঠিকই আছে। বাইরে গিয়ে টয়লেটের ইনচার্জকে ওয়ালেটটা দিলাম। সে চেক করে ভেতরে থাকা আইডি কার্ড থেকে নাম্বার নিয়ে ওয়ালেটের মালিককে ফোন দিল। ভদ্রলোক কাছেই ছিল। এসে তাকে বেশ কিছু বকশিশ আর ধন্যবাদ দিয়ে ওয়ালেট নিয়ে গেল, দূর থেকে দেখলাম। মসজিদের ভিতরেই তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পড়া কিছু স্থানীয় লোকজন দেখলাম, বিশেষ করে তাদের লম্বা লাল টুপি দেখতে দারুন লাগছিল।

Square in Old Istanbul
ইস্তাম্বুলের পুরনো শহর সুলতানাহমেত
Square in Sultanahmet
সুলতানাহমেত শহর চত্বর

নামাজ পড়ে আরো অনেক্ষণ ঘোরাঘুরি করলাম। একটা স্টুডিওর সামনে দেখলাম সুলতানদের কসটিউম পড়ে লোকজন দাঁড়িয়ে আছে। এই পোশাকে তারা ছবি তুলে দেয়। একটা ছবি প্রিণ্ট দিবে – ৭ ডলার। বললাম একটা তুলে দিতে। তারা তুলল ২০ টার বেশী। বলে, যতক্ষণ তুলতেছি, ততক্ষণ দাঁড়িয়ে থাক। আমি না বলা পর্যন্ত যেতে পারবে না। তুললাম। শেষে বাছাই করে একটা প্রিণ্ট দিতে বললাম। দিল। বললাম, বাকীগুলোর ডিজিটাল কপি দিয়ে দাও। বলল, ২৫ ডলার লাগবে। বললাম, কম নাও। ১৫ ডলার দিব। দিলনা। একদাম ২৫ ডলার লাগবে বলল। কি আর করা, চলে এলাম। পরে অবশ্য আফসোস হয়েছিল ছবিগুলো না আনাতে।

Costume Photo Shop at Sultanahmet
সুলতানাহমেতে কসট্যিউম ফটো শপ (ফটোম্যান)
My costume photo in Istanbul
৭ ডলারে তোলা আমার সেই ঐতিহাসিক ছবি। হার্ড কপি থেকে স্ক্যান করা। অনেক ঘষামাজা করেও ঠিক করা গেল না। কি আর করা!

আরো কিছুক্ষণ পুরনো শহরে ঘুরাঘুরি করে বিকেলে একই বাসে চলে আসলাম এয়ারপোর্ট। পরবর্তী গন্তব্য – লণ্ডন। সাদা পাসপোর্টে একজন বাংলাদেশী লণ্ডন যাচ্ছে – এই খবর পেয়ে ইমিগ্রেশনের অনন্তঃ ৫-৬ জন ছোট-বড় অফিসার এসে লাইন থেকে সাইড করে ঘিরে ধরল। সে এক ইতিহাস! আমি শুধু হাসছিলাম। এক বিন্দুও টেনশন হচ্ছিল না!

Leave a Comment